Relation Between Physics and Psychology


পদার্থবিজ্ঞানের সাথে মনোবিজ্ঞানের সম্পর্ক ------------------------ নিউটনের ১ম সূত্রানুযায়ী, বাহ্যিক কোন বল না প্রয়োগ করা না হলে - স্থির বস্তু চিরকাল স্থির এবং গতিশীল বস্তু চিরকাল গতিশীল থাকবে। পদার্থবিজ্ঞানী হওয়ায় হয়ত তিনি এখানে "বস্তু" উল্লেখ করেছেন। হতেই পারে। তিনি তো আর আমাদের মতো একাধারে সব বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেন নি। :D - যায় হোক, তিনি যদি একটু নিজেকে অর্থাৎ মানুষকে নিয়ে চিন্তা করতেন তাহলে "বস্তু" শব্দটার পরিবর্তে "পদার্থ" ব্যবহার করতেন আমি নিশ্চিত। ঠিক কেন বলছি এই কথা তাঁর কারণ আছে। বেয়াদবি মাফ করবেন। -_- - "পদার্থ" শব্দটা ব্যবহার করলে তাঁর সূত্রটি সার্বজনীনে রূপ নিত তাই বলছি। কিভাবে? চলুন তাহলে শুরু করা যাক। - আমরা জানি, পদার্থ দুই প্রকার। এক- জীব, দুই- জড়। আশা করি, তাঁর সূত্রে "বস্তু (object) " বলতে তিনি জড়বস্তুকে বুঝিয়েছেন বা আমরা যা বুঝেছি। কিন্তু - জড়রাও যেমন - জড়তা পছন্দ করে, জীবও তাই। দৈনন্দিন জীবনে যা করে তাই সারাজীবন করে যেতে চাই, যেমন আছে তেমন থাকতে চায়। একটু পরিবর্তন আসলেই মাথাব্যথা শুরু হয়ে যায় - কি না কি হয়ে গেল। :/ আসলে আমাদের ব্রেইন পরিবর্তন মেনে নিতে চাই না। হয়তবা, ব্রেইন মনে করে আমাদের এই পরিবর্তনে কোন ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা আছে। তাই নতুন যেকোন কাজ শুরু করার আগে প্রথম প্রথম মন থেকে আমাদের বাঁধা আসে। :3 - এ অবস্থায় আমাদের অভিজ্ঞতা বা অন্যদের অভিজ্ঞতা এবং অর্জিত জ্ঞান দিয়ে ব্রেইনকে বোঝাতে হয় আসলেই এটি ভাল না খারাপ। - এই যে, বোঝানোর বিষয়টি, এটিই হচ্ছে -- প্রযুক্ত বল। - আপনি যদি ব্রেইনে যদি বল প্রয়োগ না করে (না বুঝিয়ে) পরিবর্তন আনতে চান তাহলে ফলাফল শূন্য। আপনার স্থির মস্তিস্ককে গতিশীল করতে হলে অবশ্যই নিজের পুরানো অভিজ্ঞতা ও অন্যের অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা আর সে বিষয়ে জ্ঞান রেখে ভালমন্দ বোঝাতে হবে। যদি সেই বল প্রয়োগ ঠিকভাবে না হয়, তাহলে আপনার মস্তিষ্ক যেমন স্থির ছিল তেমনি থেকে যাবে। :) - Wait! Wait! বিষয়টা পরিষ্কার করে দিচ্ছি!! আমরা জানি, পদার্থবিজ্ঞানের মতে, বস্তুর (আমি মনে করি - এখানেও "পদার্থের" হবে) সরণ না ঘটে তাহলে কিন্তু কাজ এর মান শুণ্য। তাহলে বুঝতেই পারছেন, আপনি বল প্রয়োগ করলেন, কিন্তু একটুও আপনার মনে এবং মস্তিষ্কে পরিবর্তন আনতে পারেন নি তাহলে কাজ কিন্তু শূন্য, ফলাফল শূন্য। প্রযুক্ত বলগুলো তখন অপচয় বলে গণ্য হবে। আপনার পরিশ্রম রূপ নিবে পন্ডশ্রমে। তাই আমাদের উচিত, সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে বল প্রয়োগ করা, যাতে ১ চুল পরিমাণ হলেও পরিবর্তন আনতে পারি। বুদ্ধিমানেরা পদার্থবিজ্ঞানের ফর্মূলার মত কিছু কার্যকর ফর্মূলা তৈরি করে নেয় যাতে কম পরিশ্রমে অধিক ফল পাওয়া যায়। যেমন - একটা সমস্যায় পড়লে, সমস্যা সমাধান হলো। এখন সেই সমস্যাতে ও সমাধান করতে গিয়ে যে শিক্ষা পেল তা মনে রাখায় হল -- একটা ফর্মুলা। :) - যাক, নিউটনের সূত্রের সীমাবদ্ধতা আবিষ্কার করে ফেলেছি। এর জন্য আমি শান্তিতে নোবেল পাব, বন্ধুরা? :D - সবকথার শেষ কথা - "অর্জিত জ্ঞান তখনই পরিপূর্ণ হয় যখন সেটা আপনি আপনার জীবনের সাথে মিলে-মিশে একাকার করে কাজে লাগাতে পারবেন। সেটা যেভাবেই হোক। যেমন দেখেন - আমি পদার্থবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান মিক্স করে "মনোপদার্থবিজ্ঞানের ভর্তা" বানিয়ে ফেললাম (থাক! নিজের প্রশংসা আর না করি)। ^_^ সবাই ভাল থাকবেন। আর আপনাদের মূল্যবান মন্তব্য দিয়ে আমাকে সাহায্য করবেন। ধন্যবাদ। --------- লিখেছেনঃ Jamilur Rahman Masum